লবণ পানিতে বিদ্যুৎ তৈরী

লবণ পানিতে বিদ্যুৎ তৈরী

আমাদের দেশের সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম প্রধাণ সমস্যা হলো বিদ্যুৎ সমস্যা। ঘন ঘন লোডশেডিং আমাদের জন জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। লোডশেডিং এর এই সমস্যা বর্ষাকালে এবং গ্রামে অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। গ্রাম অঞ্চল বা বর্ষাকাল যাই হোক না কেন, বিদ্যুৎ ছাড়া এক মুহুর্ত চলা দায়। বিদ্যুৎের এই সমস্যা সমাধানে অনেকে অনেক ধরনের কৌশল অবলম্বণ করে থাকি। কেউ আই.পি.এস. বা ব্যাটারি আবার কেউ জেনারেটর ব্যবহার করে থাকে। আচ্ছা, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের পাশাপাশি আমরা যদি নিজেরাই বিদ্যুৎ তৈরী করি তাহলে কেমন হয়। তাও আবার অতি অল্প খরচে। নিশ্চই অনেক ভাল হবে, তাই না। এই পর্বে আমি লবণ দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরী করা শেখাব। আর হ্যা, এই পর্বে শুধুমাত্র শেখানোর জন্য সল্প পরিসরে দেখানো হয়েছে। আপনি চাইলে এভাবে বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পারিবারিক সকল চাহিদা মেটাতে পারবেন। কথা আর বারাবো না। চলুন জেনে আসি কিভাবে লবণ দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরী করবেন।

 

কাজের ধারাঃ

কারেন্টের তারটি ৩ টুকরো করুন। ১ম তারের ১ম মাথা ব্যাটারির সাথে লাগান এবং ২য় মাথা ফাঁকা রাখুন। ২য় তারের ১ম মাথা ব্যাটারির অপর প্রান্তে লাগান এবং ২য় মাথা বাল্বের একপ্রান্তে লাগান। ৩য় তারের ১ম মাথা বাল্বের অপর প্রান্তে এবং ২য় মাথা ফাঁকা রাখুন।এখন, ১ম ও ৩য় তারের ফাঁকা মাথা দুটি এমনভাবে গ্লাসের পানিতে ডুবান যাতে এদের মাঝে ৪-৫ সে.মি. ফাঁকা থাকে। তবে খেয়াল রাখবেন, দুরত্বটা যেন কম বা বেশি না হয়। এখন বাল্বটির দিকে খেয়াল করুন। কিছু দেখতে পাচ্ছেন? বাল্বটি কি জ্বলছে? এবার, গ্লাসের পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে দিন। দেখুনতো বাল্বটি জ্বলছে কি না? অল্প অল্প আলো হচ্ছে, তাই না। আচ্ছা, গ্লাসে আরেক চামচ লবণ দিন। এরপর আরেক চামচ। এভাব সবটুকু লবণ দিন। এবার দেখুন তো, আলোর কোন পার্থক্য চোঁখে পড়ে কি না্। অবশ্যই পার্থক্য চোঁখে পড়ছে। আলো আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে তাই না। এভাবে গ্লাসে যত বেশি লবণ মেশাবেন তত বেশি আলো হবে।


ভালো লাগলে পড়ুনঃ

  1. পেন্সিল দিয়ে রেগুলেটর তৈরী
  2. নকল লেখা সনাক্ত করার উপায়
  3. গুগল এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে লক্ষণীয় বিষয় সমূহ

কারণঃ

পরীক্ষায় আমরা দেখলাম যে, পানিতে লবণ মেশালে বাল্বের আলো বেড়ে যায়। লবণ (Nacl) হলো সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরাইড (Cl) এর যৌগিক রূপ। পানিতে লবণ মেশানোর পর নিজস্ব ধনাত্বক (পজেটিভ) সোডিয়াম এবং ঋণাত্বক (নেগেটিভ) ক্লোরাইড আয়নে ভাগ হয়ে পড়ে। আর এর পড়ে ইলেকট্রনের একটি ধারা ক্লোরাইড থেকে সোডিয়াম আয়নের দিকে বইতে শুরু করে। এই প্রবাহ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সার্কিটকে পরিপূর্ণ করে না, বিদ্যুৎ প্রবাহে গতি প্রদাণেও সাহায্য করে। শুধুমাত্র লবণ দিয়ে নয়, লবণ ছাড়াও সোডা, ভিনেগার, চিনি ইত্যাদি দিয়েও বিদ্যুৎ তৈরী করা যায়। আপনি চাইলে বাড়িতে বসেই এটি করতে পারবেন। তবে সাবধানে কাজ করবেন। জানেন তো, সাবধানের মার নেই। আজকের পর্ব এই পর‌্যন্তই। আগামী পর্বে আরো ভালো কিছু নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব বলে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্ হাফেজ।

Leave a Reply