বাড়ীতে বসেই নকল লেখা সনাক্ত করার উপায়

অনেক সময় আমাদের পুরোনো কোন কাগজ, চিঠিপত্র কিংবা দলিলের লেখা আসল কি নকল তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সন্দেহ থেকে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানের জন্য কোন বিশেষজ্ঞের সাহায্যে কাগজের লেখা আসল কি নকল তা সনাক্ত করতে হয়। এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কোন বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি অনেক টাকা দাবী করে। যা কিনা অনেকটাই বাড়াবাড়ী পর‌্যায়ে চলে যায়। আপনি চাইলেই এই আসল বা নকল লেখা সনাক্ত করার পরীক্ষা বাড়ীতে বসেই করতে পারবেন। এই পর্বে আমি নকল লেখা চেনার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। চলুন জেনে নেয়া যাক, বাড়ীতে বসেই নকল লেখা চেনার উপায় ।

 

প্রয়োজনীয় উপকরন:-

১. কলমের কালিতে লেখা পুরোনো কাগজ।
২. অক্সালিক এসিড।
৩. বলপয়েন্ট কলম।

 

কাজের ধারা:-

খুজে বের করা পুরোনো কাগজটি হাতে তুলে নাও। কাগজটির অলেখা অংশে নতুন করে কিছু একটা লেখ। লক্ষ্য রাখতে হবে, নতুন করে লেখা এবং পুরোনো লেখার পার্থক্য যাতে সহজে বুঝতে পারা না যায়। কাজটি করার সময় কেউ যাতে দেখতে না পায় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

কাগজের পুরো অংশে অক্সালিক এসিডের ৫% নিয়ে ভাল করে ঢালুন। বেশি পরিমাণ ঢালবেন না, নইলে কাগজের লেখাটাই নষ্ট হয়ে যাবে। ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবে, কাগজের কিছু অংশের লেখা দ্রুত আশেপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু কিছু লেখা আস্তে আস্তে আশেপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। কাগজের লেখার আলাদা আলাদা গতি দেখে সহজেই বুঝতে পারা যায় কোন লেখা আসল আর কোন লেখা নকল। আসল লেখার কালি আস্তে আস্তে এবং নকল লেখার কালি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।

 



আপনি পছন্দ করতে পারেন:-

মস্তিষ্ক নিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য

GPS Tracker কি এবং কিভাবে কাজ করে

WordPress Website হ্যাক থেকে বাচার উপায়

গুগল এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে লক্ষণীয় বিষয় সমূহ



কারন:-

সাধারনত সব ধরনের বল পয়েন্ট কলমের কালিতেই “টেনেট অফ আয়রন” নামক একধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে এই টেনেট অফ আয়রন ধীরে ধীরে অক্সিকরন (অক্সিডেশন) হতে থাকে। যার ফলে এর মধ্যে অম্লের পাতলা দ্রবণ সহ্য করার মতো শক্তি এসে যায়।বল পয়েন্ট কলমের কালি যত বেশি পুরাতন হবে অম্লের পাতলা দ্রবণ সহ্য করার শক্তি তত বেশি হবে। আবার কাগজে অক্সালিক এসিড ঢালার পর লেখার গতি ততটাই ধীর হবে। এই লেখা ৬ বছরের বেশি পুরাতন হলে লেখা একদমই ছড়াবে না। লেখা যদি নতুন হয় তাহলে অম্লের পাতলা দ্রবণ সহ্য করার শক্তি তত কম হবে। ফলে কাগজের লেখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। লেখা যত নতুন হবে, কালি ততটাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।

এরকম সমস্যা যখনই আপনার সামনে আসবে, তখনই আপনি দক্ষ্য ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের মতো পরীক্ষা করে সত্য প্রকাশ করতে পারবেন।

‘আসল’ সার্টিফিকেট চেনার উপায় – Bangla Tribune