কিডনি নষ্টের ১০টি কারন

কিডনি নষ্টের ১০টি কারন

কিডনি বা বৃক্ক মানবদেহের একটি অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ অংগ। এটি একটি অমুল্য সম্পদ। সৃষ্টিকর্তার অশেষ দান। সৃষ্টিকর্তা তার প্রিয় বান্দাদের উপর দয়া করে বেচেঁ থাকার জন্য দুটি করে কিডনি দান করেছেন। কিডনি মানবদেহ থেকে সব ধরনের দুষিত পদার্থ বের করার কাজ করে। শরীরের সকল নোংরা পরিষ্কার করাই এর কাজ। কোন কারনে কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে শরীরের দুষিত পদার্থ শরীরের বাইরে বের হতে পারে না। সকল দুষিত পদার্থ শরীরের মাঝেই অবস্থান করে। ফলে, মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মারা যায়। মানুষ বুঝে বা না বুঝে বিভিন্ন কারণে তাদের মহামুল্য কিডনি দুটি ঝুকির মুখে ফেলে দেয়। হয়ত বা না জেনেই অথবা অবহেলার কারনে এসব করে থাকে। তবে যাই হোক, কিডনি নষ্টের কারণগুলো কিন্তু খুবই সাধারণ। এই পর্বে আমরা কিডনি নষ্টের ১০টি কারন জানার চেষ্টা করব। চলুন শুরু করা যাক।

১. প্রসাব আটকে রাখাঃ-

একটানা দীর্ঘ সময় ধরে জোর করে প্রসাব আটকে রাখলে মুত্রথলিতে চাপ পড়ে। ফলে থলির অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিরা ছিড়ে যায়। শিরা বেশি পরিমাণ ছিড়ে গেলে কিডনি নষ্ট হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে হলে দীর্ঘসময় প্রসাব আটকে রাখা উচিত নয়।

২. পরিমাণমত পানি পান না করাঃ-

মানবদেহের ৭০% পানি দিয়ে তৈরী। মানবদেহেরে সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রচুর পরিমান পানি প্রয়োজন। একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের প্রতিদিন অন্ত্যত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। কিন্তু, আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা পর্যাপ্ত পানি পান করতে চায় না। সামান্য পরিমান পানি পান করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করলে দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোষ পরিচালনায় বাধা পায় এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। অনান্য অঙ্গের মতো, কিডনি ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এ থেকে বাচতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে।


অদৃশ্য চিঠি লেখার উপায়– পড়ে আসার অনুরোধ রইল।


৩. অতিরিক্ত লবণ খাওয়াঃ-

আমাদের মধ্যে অনেকেরই খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। কেউ আবার খাবারের সাথে কাচা লবণ খেয়ে থাকে। যাই হোক না কেন, খাবারের সাখে কখনোই অতিরিক্ত লবণ খাওয়া উচিত নয়। এতে কিডনি নষ্ট হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই খাবারের সাথে সব সময পরিমিত লবন খেতে হবে। লবন ভেজে খাবার অভ্যাস করতে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়।

৪. মাংস বেশি খাওয়াঃ-

আমাদের মাঝে অনেক খাদ্য রসিক মানুষ দেখৈতে পাওয়া যায়। এ ধরনের মানুষ খাওয়া দাওয়া করতে খুব পছন্দ করে। বিশেস করে মাংস। মাংস অথবা মাংস জাতীয় খাবার পেলে, তাদের আর কিছু চাই না। জীবনটা যেন কানায় কানায় পরিপূর্ণ। মাংসে অতিরিক্ত চর্বি থাকে। যা কিনা শরীরের ফ্যাট বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত ফ্যাট শরীরের জন্য অতন্ত্য খারাপ। এতে কিডনি নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই, কিডনি সুরক্ষিত রাখতে হলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৫. প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়াঃ-

প্রত্যেক মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমান খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। পরিমানের চেয়ে বেশি খাদ্য গ্রহণ করা যেমন উচিত নয়, তেমনি পরিমানের চেয়ে কম খাদ্য গ্রহণ করাও উচিত নয়। পরিমানের চেয়ে কম খাদ্য গ্রহন করলে শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংগ প্রতঙ্গ্য পুষ্টির অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। শারিরীক বিকাশ ব্যাহত হয়। কিডনি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই, কিডনি ভাল রাখতে হলে প্রতিদিন পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।


নকল লেখা সনাক্ত করার উপায় – পড়ে আসার অনুরোধ রইল।


৬. পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণঃ-

প্রতিটি মানুষের শারিরীক প্রকৃয়া ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘন্টা এবং বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে ৮ ঘন্টা করে ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু, অনেকে বিভিন্ন ধরনের চাপের কারনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে পারে না। ঘুমের চাহিদা অপূর্ণই থেকে যায়। ফলে শারিরীক বিকাশ বাধঅগ্রস্থ হয়ে পড়ে। শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংগ নষ্ট হয়ে যায়। এমন কি কিডনিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কিডনি ভাল রাখতে হলে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম গ্রহণ করা অতন্ত্য জরুরী।

৭. অতিরিক্ত মদ খাওয়াঃ-

অতিরিক্ত মদ্যপান করা কিডনি দ্রুত নষ্ট হবার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। মদে প্রচুর পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে। কিডনি আমাদের দেহ থেকে অ্যালকোহল জাতীয় পদার্থ ঠিকমত নিষ্কাশন করতে পারে না। ফলে এটি কিডনিতেই অবস্থান করে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে থাকে। শুধু কিডনিই নয়, অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ও ক্ষতি করে। অতিরিক্ত মদ্যপান করলে লিভার সিরোসিস হবার সম্ভাবনা থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনাই বেশি। কাজেই অতিরিক্ত মদ্যপান করা কোনভাবেই উচিত নয়।

৮. যেকোন সংক্রমনে দ্রুত চিকিৎসা না করাঃ-

আমাদের আশেপাশে অনেকেই আছে যারা, কোন সংক্রমনে দ্রুত চিকিৎসা করাতে চায় না। ঢিলেমি করে। রোগ পুষিয়ে নিয়ে বেড়ায়। যেকোন সংক্রমনে দ্রুত চিকিৎসা না করলে শরীরের বিভিন্ন অংগ প্রতঙ্গের মত কিডনিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়। তাই কিডনি বাচাঁতে হলে, যেকোন সংক্রমনে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।


গুগল এডসেন্স আবেদন করার পূর্বে লক্ষণীয় বিষয় সমূহ – পড়ে আসার অনুরোধ রইল।


৯. অতিরিক্ত ব্যাথানাশক ওষুধ সেবনঃ-

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন, যারা সামান্য কারনেই ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন করে। সামান্য ব্যাথা করতে না করতেই ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন করে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন শরীরের জন্য অতন্ত্য ক্ষতিকর। এতে কিডনি মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। তাই কিডনি ভাল রাখতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যাথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

১০. ওষুধ সেবনে অনিয়মঃ-

প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। সময়ের কাজ সেই নির্দিষ্ট সময়েই শেষ করতে হয়। সময়ের কাজ অসময়ে করলে তার জন্য মাশুল গুনতে হয়। সব কিছুর মতো, ওষুধ সেবন করাটাও এ নিয়মের বাইরে নয়। সময় ছাড়া অসময়ে ওষুধ সেবন করলে কিডনি মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি কিডনি নষ্টও হতে পারে। তাই, কিডনি সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই সময়মত ওষুধ সেবন করতে হবে।

 

এই পর্বে আমরা কিডনি নষ্টের ১০টি কারন জানার চেষ্টা করেছি। পরবর্তীতে অন্য কোন বিষয় নিয়ে জানার চেষ্টা করব। সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন। আল্লাহ্ হাফেজ।

Leave a Reply